মামলা জটিলতায় সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের সুফল বঞ্চিত পৌরসভাবাসী, মিলছে পরপর মরদেহ

ষ্টাফ রিপোর্টার,১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বিবিনিউজ) : প্রথম শ্রেণির সাভার পৌরসভা পৌরবাসীর সুবিধায় নির্মান করেন পৌর কমিউনিটি সেন্টার। প্রথম দিকে এর সে সুফল পাচ্ছিলো পৌরবাসী,কিন্তু চালু হওয়ার কয়েক বছরের মাথায় জায়গার মালিকানা নিয়ে পৌরসভা ও জেলা পরিষদের মাঝে সৃষ্ট জটিলতা মামলায় গড়ালে বন্ধ হয়ে যায় পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি। মামলা চলমান থাকায় দেড় যুগের বেশী সময় বন্ধ থাকায় বখাটে ও অপরাধীদের আস্তানায় পরিনত হয় কমিউনিটি সেন্টারটি। ইতিমধ্যে চুরি হয়েগেছে মূল্যবান জিনিসপত্র। সেন্টারের ভিতর থেকে পর পর ২টি মরদেহ উদ্ধারের পর সেন্টারটি দিকে নজর দেয় প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা পরিষদ। এদিকে পরিষ্কার পরিছন্ন করার মাস না পেরোতেই মিলে ৩য় মরদেহ।

পৌর কমিউনিটি সেন্টারের এমন অবস্থায় সুবিধা বঞ্চিত পৌরবাসী ক্ষোভ ও দায়িত্ব অবহেলার প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বদের দিকে, যদিও পুলিশ প্রশাসন বলছে নজর রাখছেন তারা আর পৌর প্রশাসক বলছে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, শীঘ্রই জেলা পরিষদের সাথে কথা বলে বিরোধ মীমাংসা করা হবে, নিরাপত্তা জোড়াদার করা হয়েছে, মামলার সমাধান হলে চালুর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাললা জটিলতার কারণে দেড় যুগ বন্ধ থাকা সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারটির বাহির ও ভিতরে গেল কয়েক মাস পূর্বেও ছিলো এমন ভুতুড়ে পরিবেশ। ছিলো মাদক ও অপরাধী চক্রের আড্ডা। পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভিতর থেকে পর পর ২টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার পর নড়েচড়ে বসা পৌর কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিষদ ও প্রশাসন, হয় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ রাতে ব্যবস্থা করা হয় আলোবাতির। এতো কিছুর পরও গত মাসের একই স্থান থেকে উদ্ধার হয় অজ্ঞাত ৩য় নম্বর মরদেহ। একের পর এক এমন মরদেহ উদ্ধার আতংক রয়েছেন স্থানীয়রা। সাভার পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পৌর কমিউনিটি সেন্টারটির নিকটেই রয়েছে সাভার মডেল থানা, সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অধর চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সাভার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ও সাভার প্রেসক্লাব।

সাভার নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম বলেন,সাভার পৌরবাসীর সুবিধায় পৌর কমিউনিটি সেন্টার গড়ে তোলা হলেও বর্তমান অবস্থায় হতাশ পৌরবাসী দায় চাপালেন পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলার প্রশাসনের উপর, দাবি করলেন প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর।

এদিকে সচেতন মহল বলছে,দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি না থাকায় এই স্থানটিতে মাদক সেবন এবং ঘুম, খুনের অভয় আশ্রম হিসেবে গড়ে উঠেছে। যার দায় দায়িত্বরতরা এড়াতে পারে না।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলোক বাতি বসানোর কথা জানিয়ে সাভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান মামলার জটিলতা রয়েছে, তবে সঠিক সমাধানের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা জেলা (উত্তর)অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলামজানান, পরপর পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভিতর ৩ টি মরদেহ মেলায় বিশেষ নজরদারি রাখছেন ।

শুধু কথার ফুলঝুরি আর আশ্বাস নয়,পৌরবাসীর সুবিধায় পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি নজর বাড়াবে প্রশাসন,মামলা জটিলতা নিরসন করে দ্রুত পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি নতুন করে ব্যবহার উপযোগী করা হবে এমনটাই দাবি পৌরবাসীর।

Related posts

Leave a Comment